চাই বাস্তবায়ন

চাই বাস্তবায়ন

দেশে প্রথম জাতীয় ওষুধনীতি প্রণীত হয় আশির দশকে। ভাল হোক, মন্দ হোক সে সময়ে এই ওষুধনীতি ব্যাপক আলোচনায় আসে। বর্তমানে ৯৮ শতাংশ ওষুধ উৎপাদিত হয় দেশেই। কিছু জীবনরক্ষাকারী ওষুধ এখনও বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয় বটে; তবে পর্যায়ক্রমে সে সবেরও উৎপাদনের চেষ্টা চলছে। আরও একটি শ্লাঘার বিষয় হলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ শতাধিক দেশে বাংলাদেশে উৎপাদিত ওষুধ রফতানি হয়। এরপরও ওষুধ শিল্প খাতে কমবেশি যে নৈরাজ্য চলছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। দেশে প্রায় সাড়ে তিন শতাধিক ছোট-বড় ওষুধ প্রস্তুতকারক কারখানা আছে। মুষ্টিমেয় কয়েকটি বাদে অধিকাংশই মানহীন। ফলে নকল ও ভেজাল ওষুধের দৌরাত্ম্য কমছে না কিছুতেই। ভেজাল ওষুধ খেয়ে মৃত্যুর খবরও শোনা যায়। এর বাইরেও প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থা হিসেবে আধুনিক এ্যালোপ্যাথি চিকিৎসার পাশাপাশি রয়েছে হোমিওপ্যাথি, আয়ুবের্দী, ইউনানী, হেকিমী এমনকি ওঝা, বদ্যি, টোটকা-ফকিরী চিকিৎসা, ঝাড়ফুঁক ইত্যাদি। পানিপড়া, তেলপড়া, হলুদপোড়া ইত্যাদিও চলছে কমবেশি। সে অবস্থায় নতুন করে ওষুধনীতির আবশ্যকতা অস্বীকার করার উপায় নেই। এর পাশাপাশি পুরনো ওষুধনীতির আধুনিকীকরণ তথা সংস্কারও আবশ্যক। তবে এক্ষেত্রেও অন্য অনেক কিছুর মতো প্রাচীরসম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আমলাতন্ত্র।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম ছিল সবার জন্য গ্রহণযোগ্য একটি নতুন ওষুধনীতি প্রণয়ন করা। ২০১১ সালে এই লক্ষ্যে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের তৎকালীন মহাপরিচালককে প্রধান করে ১৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠিত হয়। ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে খসড়া ওষুধনীতি প্রণয়ন করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হলেও এতদিন সেটা ফাইলবন্দী হয়ে পড়েছিল। এ নিয়ে আপত্তি উত্থাপনসহ আদালতে মামলাও হয়েছে। প্রায় তিন বছর ফাইলবন্দী থাকার পর অবশেষে প্রস্তাবিত ওষুধনীতির খসড়া অনুমোদন দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে এটি এখন আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে অনুমোদনের জন্য। এরপর মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষে উত্থাপিত হবে জাতীয় সংসদে।

নতুন ওষুধনীতির একটি বৈশিষ্ট্য হলো, এবারই প্রথমবারের মতো এ্যালোপ্যাথিক, হোমিওপ্যাথিক, ইউনানী আয়ুর্বেদিকসহ সব রকম ওষুধকে অন্তর্ভুক্ত করে সমন্বিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। নকল, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধসহ চোরাচালানকৃত ওষুধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট ও ক্রেতাদের সুবিধার্থে সব ওষুধের বাণিজ্যিক নামের পাশাপাশি জেনেরিক নামও সুস্পষ্টভাবে লেখার বিধান রাখা হয়েছে। এসবই যে ভাল উদ্যোগ, এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। তবে শেষ পর্যন্ত সব ভাল উদ্যোগই মাঠে মারা যায় যদি এর সফল প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন সম্ভব না হয়। সরকার তথা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই বিষয়টি মাথায় রেখে এই নীতি বাস্তবায়নে আন্তরিক ও উদ্যোগী হবে বলেই প্রত্যাশা।