বেতাগী পৌরসভার আধুনিক রূপকার মেয়র গোলাম কবীর

বেতাগী পৌরসভার আধুনিক রূপকার মেয়র গোলাম কবীর

শাহ্ আলী ঃ বেতাগী পৌরসভা ১৯৯৯ সালে স্থাপিত হয়। স্থাপিতকাল থেকে শুরু করে বর্তমান মেয়র গোলাম কবীরের কর্মকালের আগ মূহুর্ত পর্যন্ত বেতাগী পৌরবাসীর জীবন ব্যবস্থা ছিলো অত্যন্ত নি¤œমানের। এই পৌরসভার পৌরবাসীর মানসম্মত জীবন ব্যবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে ২০১৬ সালে বেতাগী পৌরবাসীর রায় নিয়ে পৌরসভার এই গুরু দায়িত্ব গ্রহন করেন বর্তমান মেয়র গোলাম কবীর। তার কর্মকালীন সময় বাদ দিয়ে দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরে বেতাগী পৌর শহরের যতটুকু উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল আদৌ তা হয়নি। আর না হওয়ার পিছনে বিগত বছর গুলোতে যারা এই পৌর শহরের দায়িত্বে থেকে উন্নয়নের ব্যাপারে কেন উদাসীন ছিলেন পৌরবাসীর কাছে আজ তা প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মেয়র গোলাম কবীর পৌরসভার দায়িত্ব নেয়ার আগে এই পৌর শহরের রাস্তাঘাট, পয়ঃনিস্কাশন, বৈদ্যুতিক খুঁটির অবস্থান, পানি সাপ্লাই ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সকল ব্যবস্থাই ছিলো অত্যন্ত নাজুক ও ভঙ্গুর অবস্থায়। শহরের ভিতরকার অবস্থা দেখলে মনে হত যেন অজপাড়াগায়ের কোন এক অগোছালো বাজার। সেই বেতাগী পৌরসভার সাথে আজকের পৌরসভার যেনো কোন মিল খুঁজে পাওয়া যায়না। অতীতের ভূক্তভোগী পৌরবাসীর কাছে আজকের পৌরসভা যেন স্বপ্নে দেখা কোন এক সুন্দরী রাজকন্যার মত।

কঠিন আত্মপ্রত্যয়ী মনোভাব, ইচ্ছা শক্তি এবং শ্রম দিয়ে আজকের বেতাগী পৌরসভার আধুনিকায়নে যিনি রূপ দিয়েছেন সেই কৃতিত্বের দাবীদার বর্তমান মেয়র গোলাম কবীর। সদিচ্ছা থাকলে প্রতিটি মানুষই পারে তার বুদ্ধিমত্তা দিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করতে। বেতাগী পৌরশহরের শোভাবর্ধন এবং পৌরবাসীর সুযোগ সুবিধার্থে যেমনটি করেছেন মেয়র গোলাম কবীর।

পৌরসভার তথ্যানুযায়ী তার কর্মকালীন সময়ে উন্নয়নমূলক কাজের বিস্তারিত বিবরন তুলে ধরা হলো, বেতাগী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, বর্তমান মেয়রের প্রায় ১ বছর কর্মকালীন সময়ে বেতাগী পৌর উন্নয়নে যে কাজ হয়েছে তাহলো, সবুজ কানন থেকে দুর্জয় বেতাগী সড়ক, লঞ্চঘাট থেকে বঙ্গবন্ধু স্কোয়ার পর্যন্ত সড়ক, টাউন ব্রীজ থেকে বাস ষ্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়ক, উপজেলা পরিষদ ভবন নির্মান, বঙাগবন্ধু মুড়াল নির্মান, বঙ্গবন্ধু পৌর অডিটরিয়াম, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, কেন্দ্রিয় শহীদ মিনার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন বাজার, ৮/১০ টি নতুন রাস্তা তৈরী, পৌর এলাকার মধ্যে বেতাগী খালের উপরে ২য় টাউন ব্রীজ নির্মান, ফায়ার সার্ভিস শ্টেশনের কাজ শুরু, অত্যাধুনিক ডাক বংলা নির্মান, পৌরসভাকে ২য় শ্রেণীতে উন্নিত, জলাবদ্ধতা নিস্কাশনের জন্য পৌর শহরে ৩ টি বড় ধরনের আরসিসি ড্রেন নির্মান, পৌর এলাকায় একাধীক ব্রীজ ও কালভার্ট নির্মান, পৌর পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন, পৌর ভবন সংস্কার, পৌর শহরে বিদ্যুতের কাঁচা খুঁটি অপসারন করে জিআই পাইপের মাধ্যমে বিদ্যুত সরবরাহের ব্যবস্থার কাজ শুরু, বেতাগী পৌর শহরকে নদী ভঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা করতে বেরীবাঁধ নির্মান।

বেতাগী পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ঔষধ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেজবা উদ্দিন সাগর বলেন, বেতাগী পৌর উন্নয়নের ব্যাপারে মেয়র গোলাম কবীর যা কিছু করেছেন তা ষ্মরনযোগ্য। তিনি বলেন, বিগত দিন গুলোতে যারা বেতাগী পৌরসভার চেয়ারম্যান অথবা মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের সদিচ্ছার উপরই ছিল এই পৌর উন্নয়ন। কিন্তু কেন যে তাদের সময়ে এ উন্নয়ন হয়নি তা আমাদের কাছে কৌতুহলের বিষয়।

পৌর সভার উন্নয়নের ব্যপারে পৌর মেয়র গোলাম কবীর বলেন, আমি পৌরবাসীর জন্য কিছুই করতে পারিনি। যতটুকু যা করেছি তা আমার নৈতিক দায়ীত্ববোধ থেকেই করেছি। এটা আমার দায়ীত্ব। দশজন মানুষের উপকারার্থে হয়তবা একজনের একটু ক্ষতি হয়েছে এজন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আমার কর্মকালীন সময় ছাড়াও এই পৌরবাসীর পাশে থেকে তাদের আমি সেবা করে যাবো, তাতে যত বাঁধা বিপত্তি আসুকনা কেন সে বাঁধাকে আমি অতিক্রম করবোই ইনশাল্লাহ।

এই পৌরবাসীর সুখে দুঃখে তাদের পাশে আছি এবং থাকবো এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।