নেইমার চলে যাওয়ায় ভেতরে ভেতরে খুশি মেসি

নেইমার চলে যাওয়ায় ভেতরে ভেতরে খুশি মেসি

বিডি বার্তা ডেস্ক : নেইমারকে থেকে যাওয়ার জন্য বার্সেলোনার সব খেলোয়াড়ই অনুনয়-বিনয় করেছিলেন। আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, জেরার্ড পিকে, লুইস সুয়ারেজরা বুঝিয়েছিলেন পইপই করে। তবে অন্যদের তুলনায় নেইমারকে সবচেয়ে বেশী বুঝিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। ধরে রাখার জন্য প্রিয় বন্ধুকে মেসি ব্যালন ডি’অর জেতানোর প্রতিশ্রুতি পর্যন্ত দিয়েছিলেন! কিন্তু বন্ধুদের সেই অনুরোধ-ভালোবাসা পায়ে ঠেলে নেইমার ঠিকই রেকর্ড ২২২ মিলিয়ন ট্রান্সফার ফিতে যোগ দিয়েছেন পিএসজিতে। এতো দিন সবাই জানত, নেইমার যাওয়ায় সবচেয়ে বেশী কষ্ট পেয়েছেন মেসি! প্রিয় বন্ধুর বিচ্ছেদটা নাকি তাকে পুড়িয়েছে খুব। এসব আসলে বাইরের রূপ! লোক দেখানো। সত্যিটা হলো, নেইমার বার্সা ছাড়ায় ভেতরে ভেতরে খুশি হয়েছেন মেসি!

এতো দিন মেসির অন্দরমহলের এই সত্যটি টেনে বের করেছে স্প্যানিশ সাপ্তাহিক ক্রীড়া সাময়িকী ড্যান ব্যালন। সাময়িকীটি তাদের এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, নেইমার চলে যাওয়ায় বার্সেলোনার অন্য সবাই হতাশ হলেও মেসি আসলে তলে তলে খুশিই হয়েছেন। নেইমারকে থেকে যাওয়ার জন্য যে অনুরোধ, অনুনয় করেছেন মেসি, সেসব আসলে ছিল অভিনয়! মুখে থেকে যাওয়ার অণুরোধ করলেও ৫ বারের ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলার মনে মনে চাইছিলেন নেইমার যেন চলেই যায়!

কেন, নেইমার চলে যাওয়ায় মেসির খুশি হওয়ার কারণ কী? কারণটা স্পষ্টই। ২০০৮ সালে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদিনহো চলে যাওয়ার পর থেকেই বার্সেলোনার প্রধান খেলোয়াড় মেসি। তাকে কেন্দ্র করেই মাঠের খেলাটা খেলে বার্সেলোনা। জাভি-ইনিয়েস্তাদের বাহুতে অধিনায়কত্বের আর্মব্র্যান্ড থাকলেও মেসিই বার্সার মাঠের নেতা। কিন্তু নেইমারের সাম্প্রতিক উড়ন্ত ফর্ম আসলে ভেতরে ভেতরে শঙ্কার মধ্যেই ফেলে দিয়েছিল মেসিকে! তিনি অনুধাবন করতে শুরু করেছিলেন, নেইমার যেভাবে মাঠে আলো ছড়াতে শুরু করেছেন, তাতে ক্লাবে তার একচ্ছত্র আধিপত্য না খুন্ন হয়। ভাগ বসায় নেইমার!

ক্লাব বার্সেলোনায় নিজের আধিপত্যের সিংহাসন যাতে নড়বড়ে না হয়, কেউ যাতে ভাগ বসাতে না পারে, সেই কামনা থেকেই মেসি মনে মনে চেয়েছিলেন নেইমার চলে যাক! গুঞ্জন আছে, মেসির ছায়া থেকে বের হয়ে আসার জন্যই বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে নাম লিখিয়েছেন নেইমার। মানে নেইমার চেয়েছেন মেসির আধিপত্যের জাল ছিঁড়ে বের হতে। মেসি চেয়েছেন, প্রতিদ্বন্দ্বী চলে যাক!

এমনিতে দুজনে খুব ভালো বন্ধু। সম্পর্কটা দারুণ। তবে বন্ধুত্বের সেই মধুর সম্পর্কও তাদের মনের ভেতরের শ্রেষ্ঠত্বের দ্বন্দ্বটাকে ‘খুন’ করতে পারেনি! ড্যান ব্যালনের প্রতিবেদন বুঝিয়ে দিল, ভালোবাসার সম্পর্ককে ঠেলে ‘নিজ শ্রেষ্ঠত্বের অহংবোধ’ই বরং জয়ী।