স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যাক্তির মাছের ঘেরের কারণে সরকারী স্কুল ভবন বিলিনের পথে।

 স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যাক্তির  মাছের ঘেরের কারণে সরকারী স্কুল ভবন বিলিনের পথে।

স্টাপ  রিপোর্টার ঃ বরগুনার তালতলী উপজেলার আলীর বন্দর সরকারী প্রাধমিক বিদ্যায়ল ভবনটি মাছের ঘেরের ভাঙনের ফলে বিলিনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যে কোন সময় বিদ্যালয়ের ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মূল সড়ক থেকে বিদ্যালয়ে প্রবেশের সড়কটিও ঘেরের পানিতে এবছর বর্ষা মৌসুমে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে।সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, আলীর বন্দর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে ১০১ শতাংশ জমি রয়েছে। ২৯ শতাংশ জমিতে বিদ্যালয় ভবন রয়েছে। বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের ৭৮শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখল করে স্থানীয় প্রভাবশালী জহিরুল হক খান একটি ঘের তৈরী করেন। বিদ্যালয়ের জমি জোর করে দখল করে নিয়ে মাছের ঘের করায় এ নিয়ে আদালতে একটি মামলাও চলছে।বিজ্ঞ আদালত ওই জমির ওপর অস্থায়ী স্থিতি অবস্থা জারি করলেও জহিরুল হক তা মানছেন না বলে অভিযোগ করছেন বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি।মাছের ঘেরটি গভীর হওয়ায় প্রতি বছর বর্ষা ও শুকনো মৌসুমে এর পূর্ব ও উত্তর দিকের অংশ ঢেউয়ের তোড়ে ভেঙে যাচ্ছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয় ভবনের পশ্চিম পাশের মাটি ঘেরের পানিতে ঢেউয়ের আঘাতে সরে যাওয়ায় এখন যে কোন সময় বিদ্যালয় ভবনটি ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।ঘেরের ভাঙনের কারনে পিলারের গোড়ার মাটি সরে যাওয়ায় ভবনের পশ্চিম পাশের কক্ষের দেয়াল এবং ভীমে ফাটল দেখা দিয়েছে। যে কোন সময় ভবনটির ওই কক্ষটি ঘেরের পানিতে ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।এছাড়া মূল সড়ক থেকে স্কুলে প্রবেশের উত্তর দিকের সড়কটি সম্পূর্ন ঘেরের পানিতে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে ঘেরের পানির ভাঙনের কারনে আমতলী-তালতলী সড়কটিও রয়েছে ঝুঁকির মধ্যে। এ বিষয় স্থানীয় নারী ব্যবসায়ী হাফছা বেগম জানান, ঘেরের ভাঙনে বিদ্যালয়ে ঢোকার সড়কটি বিলীন হয়ে গেছে।তাছাড়া তালতলী-আমতলী সড়কও ভাঙতে শুরু করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, আলীর বন্ধর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে ৩ টি দলিলে ১৩০ শতাংশ জমি রয়েছে। এই জমির মধ্যে ২৯ শতাংশ জমিতে বিদ্যালয় ভবন রয়েছে বাকী ১০১ শতাংশ জমি স্থানীয় প্রভাবশালী জহিরুল হক খান প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক জমি দখল করে এর মধ্যে ৭৮ শতাংশ জায়গায় ঘের তৈরী করেন।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলতাফ হোসেন মোবারক জানান, বিদ্যালয়ের নামে ১৩০ শতাংশ জমি রয়েছে। ওই জমির মধ্যে মাত্র ২৯ শতাংশ জমি দখলে আছে বাকী ১০১ শতাংশ জমি প্রভাবশালী জহিরুল হক খান জোরপূর্বক দখল করে ৭৮ শতাংশ জমিতে ঘের তৈরী করেছে।আর সেই ঘেরের পানির ঢেউয়ের আঘাতে ভাঙনের ফলে যেকোন সময় বিদ্যালয় ভবনটি ধসে পড়তে পারে। এ বিষয়ে ঘের মালিককে বার বার বলা সত্ত্বেও তিনি কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। ঘের মালিক জহিরুল ইসলাম ভাঙনের কথা স্বীকার করে বলেন, ভাঙন ঠেকাতে একবার মাটি দিয়েছি।প্রয়োজনে শুকনো মৌসুমে আবারও মাটি দিয়ে ভরাট করে দেওয়া হবে। ঘেরের জমির মালিকানা নিয়ে এক প্রশের জবাবে বলেন, রেকডিয় সূত্রে জমির মালিক আমি। এ নিয়ে আদালতে মামলার কথাও তিনি স্বীকার করেন।”বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মো: হাফিজুল হক সিকদার বলেন, কাগজপত্র ছাড়াই অন্যায়ভাবে বিদ্যালয়ের ১০১ শতাংশ জমি দখল করে তার মধ্যে ৭৮ শতাংশ জমিতে ঘের করেছে জহিরুল হক খান। এ বিষয়ে বরগুনার দ্বিতীয় সাব জজ আদালতে মামলা রয়েছে। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক জমির ওপর স্থিতি অবস্থা জারি করলেও জহুরুল হক তা না মেনে এখনো স্কুলের জমিতে মাছ চাষ করছে।

তালতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মহা. মনিরুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়টি আমি পরিদর্শন করেছি। ঘেরের কারনে বিদ্যালয়ের ভবনটি যে কোন সময় ধসে পড়তে পারে। তবে জমি নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে।আদালত অস্থায়ী স্থিতি অবস্থা জারি করেছেন। স্থায়ী স্থিতি অবস্থা জারির জন্য পরবর্তীতে আদালতে আবেদন করা হবে। আদালতের আদেশ পেলে ঘের ভরাট করা হবে।”