বরগুনার বামনায় অবৈধ ইটের পাঁজায় দেদারছে কাঠ পুড়িয়ে চলছে ইট তৈরী

বরগুনার বামনায় অবৈধ ইটের পাঁজায় দেদারছে কাঠ পুড়িয়ে চলছে ইট তৈরী


নিজস্ব প্রতিনিধি : বরগুনা বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা ইউনিয়নের চলাভাঙ্গা লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পার্শ্বে বিষখালী নদী পাড়ে অবৈধ ইটের পাঁজায় দেদারছে কাঠ পুড়িয়ে পরিবেশ দূষন করে অবাধে ইট তৈরী করা হচ্ছে। পরিবেশ আইন অমান্য করে অনুমোদনহীন অবৈধ এই ইটের পাঁজায় ইট তৈরী করে চলছে রমরমা বানিজ্য।
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনের ২০১৩ অনুচ্ছেদ ৪এ উল্লেখিত লাইসেন্স ব্যাতীত ইট প্রস্তুত নিষিদ্ধ। ইটভাটা যে জেলায় অবস্থিত সেই জেলার জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে লাইসেন্স গ্রহন ব্যাতিরেকে কোন ব্যক্তি ইটভাটায় ইট প্রস্তুত করতে পারবে না এবং অনুচ্ছেদ ৬এ কোন ব্যক্তি ইট ভাটায় ইট পোড়ানোর কাজে জ্বালানী হিসাবে কোন জ্বালানী কাঠ ব্যবহার করতে পারবে না। এর ব্যাতিরেকে ইটভাটা স্থাপন দন্ডনীয় অপরাধ।
এ ইটের পাঁজায় অবৈধভাবে ইট পোড়ানো হলেও প্রশাসনের তরফ থেকে নেই কোন নজরদারী। সরেজমিনে দেখা যায়, চলাভাঙ্গা লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পার্শ্বে প্রায় ২ একর জমির উপর এসএইচবি ইটের পাঁজা গড়ে তোলা হয়েছে। ইটের পাজার মালিক ইমাম হোসেন কোন প্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে পরিবেশ আইনে সম্পূর্ন নিষিদ্ধ পাঁজায় কাঠ পুড়িয়ে তৈরী করছে ইট। ইট পোড়াতে পাঁজার চারপাশ জুড়ে রয়েছে প্রায় কয়েক’শ মন জ্বালানী কাঠ। ইট পাঁজার পশ্চিম পার্শ্বে রয়েছে পাউবোর বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ, আর বাঁধ লাগোয়া একটি গ্রামে কয়েক হাজার মানুষের বসবাস। এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মালেক জানান, এই ভাটার মালিক ইমাম হোসেন। তার বাড়ী বান্ধব পাড়া। তিনি জানান, কাঠ পুড়িয়ে ইট তৈরীতে এলাকার পরিবেশ শুধু দূষন নয়, যত ফলের গাছ আছে যেমন আম, লিচু গাছের মূকুল সব পুড়ে যায়। চারদিক ধুয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়।
জানতে চাইলে ইটভাটার মালিক ইমাম হোসেনের জামাতা ইসমাইল হোসেন যিনি ইট পাঁজার দেখাশুনা করেন, ইট তৈরীতে জ্বালানী কাঠ পোড়ানোর সত্যতা স্বীকার করে তিনি জানান, এাবারের ফায়ারে প্রায় ৭০ হাজার ইট পাড়ানো হবে। এই ইট পোড়াতে প্রায় ১ হাজার মন লাকরী দরকার হবে। ইট পাঁজার মালিক ইমাম হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনে একাধীকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগের পরিচালক সুকুমার চন্দ্র বিশ্বাস জানান, মাঠ পর্যায়ে মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম নিয়মিত অব্যহত আছে। যদি অবৈধভাবে এ রকম ইটের পাজা স্থাপন করে থাকে তাহলে আমরা তা মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।
এ ব্যাপারে বরগুনা জেলা প্রশাসক ড. মহাঃ বশিরুল আলম জানান, এ সমস্ত ইটভাটা যারা পরিচালনা করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়ে থাকে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাদের জরিমানা করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে তাদের কাছ থেকে প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।